বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ন
অবাক করার মতো সহজ কিছু অভ্যাস বদলে নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে উচ্চ রক্তচাপ
অনলাইন ডেস্ক
চিকিৎসকের কাছে ছোট ছোট নিয়ম বদলেই অনেক সময় বড় রকমের বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়। তাই ঘরেই কিছু উপায় অবলম্বন করেই রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখা যেতে পারে। চলুন জেনে নিই এমনই ৮টি ঘরোয়া কৌশল, যা হাইপারটেনশন কমাতে পারে ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারে।
তরমুজে থাকা সিট্রুলিন নামের অ্যামিনো অ্যাসিড শরীরে গিয়ে রূপ নেয় আর্জিনিনে, যা নাইট্রিক অক্সাইড উৎপাদনে সহায়ক। এই গ্যাস রক্তনালিকে প্রশস্ত করে ও রক্তচাপ কমায়। সকালের নাশতায় তরমুজ খাওয়া সবচেয়ে উপকারী।
সবুজ শাক, লাউ, পালং বা ঢেঁড়স—এসব খাবারে রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট, যা রক্তনালিকে শিথিল করে ও সোডিয়ামের প্রভাব কমায়। প্রতিদিনের খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে সবজি রাখুন।
এক মুঠো তিসিবীজ, পেস্তা বা আখরোট আপনার হৃদ্যন্ত্রের জন্য হতে পারে আশীর্বাদ। এতে থাকা আর্জিনিন রক্তনালিকে প্রশস্ত করে, ফলে রক্তচাপ সহজে নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে লবণমুক্ত বাদাম খাওয়াই ভালো।
বিটের প্রাকৃতিক নাইট্রেট শরীরে নাইট্রিক অক্সাইডে রূপ নেয়, যা রক্তপ্রবাহ উন্নত করে। নিয়মিত বিট জুস (চিনি ছাড়া) খেলে রক্তচাপ কমে ও রক্তনালি সচল থাকে।
স্যামন, ম্যাকেরেল বা সারডিনে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড প্রদাহ কমায় ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। নিরামিষভোজীরা চাইলে চিয়া সিড, তিসি বা আখরোট দিয়ে শরীরের চাহিদা পূরণ করতে পারেন।
কমলা, মাল্টা বা লেবুতে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড হৃদ্যন্ত্রকে রাখে সুরক্ষিত। দিনে অন্তত তিন-চারটি কমলার সমপরিমাণ সাইট্রাস ফল খেলে আপনি রক্তচাপের ওপর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব টের পাবেন।
সকাল বা সন্ধ্যার হালকা হাঁটা শুধু মন নয়, রক্তচাপও শান্ত রাখে। নিয়মিত হাঁটা হৃৎপিণ্ডকে শক্তিশালী করে, রক্তচাপ হ্রাস করে এবং মানসিক চাপ কমায়।
অনিয়মিত ঘুম বা অতিরিক্ত মানসিক চাপ হাইপারটেনশনের অন্যতম কারণ। প্রতিদিন অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম ও ধ্যান বা শ্বাস–প্রশ্বাসের ব্যায়াম মানসিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে।
🔔 সতর্কবার্তা:
এই ঘরোয়া উপায়গুলো চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধের বিকল্প নয়। যাঁরা ওষুধ সেবন করছেন বা ডায়াবেটিসে ভুগছেন, তাঁদের আগে পরামর্শ নেওয়া উচিত।